চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। এদিন মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন ও সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চেয়ে করা দুটি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিদের কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার জেরা সম্পন্ন করার জন্য আসামিপক্ষ, বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে, প্রায় ছয়বার সময়ের আবেদন করা হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরাও সম্পন্ন হয়নি। তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিতে চায়।
এর আগে গত ২০ জুলাই মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত আদালতে সাক্ষ্য দেন। দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন করার জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
মামলার নথি ও পূর্ববর্তী আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশকে কেন্দ্র করে তার অনুসারীদের হাতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্ত শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ও গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে রয়েছে। মামলায় ২৭ জন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং ১২ জন পলাতক রয়েছেন।
প্রতিনিধি/এফএ




