হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
তবে আরও দুটি মামলায় তার জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন উচ্চ আদালত। রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, হাইকোর্টে মোট চারটি মামলার রুল শুনানির জন্য ছিল। এর মধ্যে আজ গত ২৬ জুলাই শুনানি হওয়া দুটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন। বাকি দুটি মামলার শুনানি আগামী ১৬ আগস্ট।
যে দুই মামলায় জামিন হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, একটি মামলা ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। অপরটি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা এবং বিস্ফোরক আইনের ধারায় করা। এই মামলাগুলো গত বছরের ২৬ নভেম্বরের ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা হয়েছিল।
এর আগে এসব মামলায় কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। ওই মামলায় গত ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের আদালত।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের সময় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবী মারা যান।
আইনজীবী সাইফুল হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে এসব মামলাতেই হাইকোর্টে জামিন প্রক্রিয়া চলছে।
আরএনবি/এআরএম




