‘ব্যক্তিগত অসুবিধার’ কারণ উল্লেখ করে মো. নুরুল করিম নামের এক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রটি রোববার বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নুরুল করিম।
তবে তার পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নুরুল করিমের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই। অতএব, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।
আরও পড়ুন: একযোগে ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, গণমাধ্যমে নুরুল করিমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নুরুল করিম ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন কিছু তথ্য ও ছবি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পরে আমি তাকে ডেকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বিষয়গুলো অস্বীকার করেননি এবং এএজি পদে না থাকার বিষয়ে আমাকে জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, পদত্যাগপত্রটি এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তবে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন নুরুল করিম। তিনি একে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করেন।
নুরুল করিম বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা কথা ছড়িয়েছে। এটা রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে...। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমার পার্সোনাল গ্রাউন্ডে আমি প্র্যাকটিসে মনোযোগ দিতে চাই।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি মিথ্যা। আমি কখনো কোনো জেলা কমিটি, কোনো থানা কমিটি—কোথাও নেই। বাংলাদেশের কোথাও যদি কোনো পোস্টে আমাকে দেখাতে পারে, আমি... ইয়ে করব। আই চ্যালেঞ্জ দিস।
পদত্যাগের প্রকৃত কারণ হিসেবে নিজের পেশাগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি দেখছি যে আমার প্র্যাকটিসটা খুব ক্ষতি হচ্ছে। আমি কোর্টে মুভ করতে পারছি না। আমার অনেক মামলা পেন্ডিং হয়ে আছে। অনেক ক্লায়েন্ট আমার কাছ থেকে মামলা নিয়ে যাচ্ছে। আমি সেই জন্য সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। কিন্তু আমি যে এরকম একটা পলিটিক্সের শিকার হব, এটা আমি কখনো ভাবিনি।
নুরুল করিমের ভাষ্যমতে, তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট লেখা আছে যে তিনি ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।
আরও পড়ুন:‘জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’
আর নিয়োগের চার দিনের মাথায় ‘ব্যক্তিগত’ কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা উল্লেখ করে গত ৩ আগস্ট মো. মাহফুজুর রহমান নামের এক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগপত্র দেন। তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ গত ৬ আগস্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৮০ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডিএজি-এএজি পদে সব মিলিয়ে ২৬৬ জন নিয়োগ পান। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিএজি-এএজি পদে এটিই প্রথম নিয়োগ।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়া সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিল করে গত ৩০ জুলাই ডিএজি-এএজি পদে ওই নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরএনবি/এআর




