জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে রাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৮ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারীরা জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত।
তাদের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, তারা সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, তিনটি কারণে তারা পদত্যাগ করেছেন। এগুলো হলো— জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়ারি সেপারেশন কার্যকর না করা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সেই প্রসঙ্গ তুলে ইউসুফ আলী বলেন, পরবর্তী সময়ে দলীয় সরকার ক্ষমতায় এলেও তারা রাষ্ট্রের পক্ষে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন। তবে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ প্রশ্নে রাষ্ট্রের অবস্থান তাদের হতাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের চেতনা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ কারণেই তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আইনি সহায়তায় ‘লিগ্যাল এইড সার্ভিস’ চালু করেছে সরকার: আইনমন্ত্রী
পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।
এছাড়া পদত্যাগী ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, জনাব আব্দুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোবায়দুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।
এআর




