রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলছে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের বিচার। ছবি- সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার অভিযোগে বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রোববার (৯ আগস্ট) এই প্রসিকিউশন কার্যালয় এ তথ‌্য নিশ্চিত করেছে।

প্রসিকিউশন জানান, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সংঘটিত ওই গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

এরআগে একই মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আজ উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির মাধ্যমে মামলার তদন্তে নতুন মোড় এলো।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ এই পরোয়ানা জারি করেন। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।’

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, সাবেক মেজোর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সরাসরি নেতৃত্বে ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় উইং কমান্ডার সাইফ সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষীর দেওয়া সাক্ষ্যের বরাত দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বনানীতে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়ার জন্য প্রথমে একবার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। প্রথম দফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে তাকে সফলভাবে অপহরণ করা হয়।’

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুন খালেদসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

ইলিয়াস আলীকে হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত এখনও চলমান। তিনি জীবিত আছেন না কি তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার কার্যক্রম পুনরায় গতি পায়।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর