সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন তলব করেছেন উচ্চ আদালত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দাখিল করতেও বলেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৯ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। রুলে শ্যামনগরবাসীকে নিরাপদ পানি সরবরাহে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. কাওছার ও মারুফ হাসান তমাল।
শুনানিতে আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
তিনি আদালতকে জানান, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষে রিটটি দায়ের করা হয়। রিট দায়ের আগে স্থানীয় সরকার সচিব, পানি সম্পদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সংগঠনটি।
রিট আবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, নিরাপদ পানির জন্য নারী ও শিশুদের প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। ধুমঘাট এলাকার বাসিন্দা শেফালি রানী মণ্ডলের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, তিনি প্রতিদিন নদী সাঁতরে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হন, যা মানুষের জীবন ও সামাজিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবছর সংকট তীব্র হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশের পর আইনজীবী পল্লব বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতিপূর্বে সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকারকে সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার দাবি করে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এই আদেশের ফলে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো নাগরিক সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হলে সরাসরি হাইকোর্টের প্রতিকার চাইতে পারবেন।’
আরএনবি/এএম




