রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মহাস্থানগড়ে সব নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা, আপিলের অনুমতি পেল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

মহাস্থানগড়ে সব নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা, আপিলের অনুমতি পেল সরকার
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

একইসঙ্গে ২০১২ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে নিয়মিত আপিল দায়েরের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও মাহবুবুল ইসলাম। 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মহাস্থানগড় একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি বর্তমানে ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ সাইটের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ভেতরে কোনো ধরনের নতুন নির্মাণকাজ করা হলে তা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঐতিহ্যের সুরক্ষায় এখানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি।’

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে বলেন, ‘মহাস্থানগড়ে আগত নারী পর্যটকদের জন্য নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম তৈরির বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমান রায়ে সব ধরনের নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে রায়টি সংশোধনের প্রয়োজন।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে মহাস্থানগড় সীমানার ভেতরে মাজার কমিটি কর্তৃক মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর ওই এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

ওই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি মহাস্থানগড় সংরক্ষণের স্বার্থে সীমানার বাইরে পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে।

শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে সব ধরনের উন্নয়নমূলক ও নির্মাণকাজের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর সম্প্রতি স্থানীয় একজন মন্ত্রী ওই এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে জেলা প্রশাসন কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন সেই কাজ বন্ধ করে দিলেও ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করার উদ্যোগ নেয়। 

যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ওই এলাকায় নির্মাণকাজের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়ে সলিসিটর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছিল।

আজকের আদেশের ফলে নিয়মিত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহাস্থানগড় এলাকায় নতুন কোনো নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আরএনবি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর