রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনা ছিল কাদেরের, অনুমতি দেন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনা ছিল কাদেরের, অনুমতি দেন হাসিনা
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই পরিকল্পনা এসেছিল সাবেক সেতুমন্ত্রী ও দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাথা থেকে। পরে তা বাস্তবায়নের অনুমতি দেন সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।

রোববার (৯ আগস্ট) ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এমনই একটি ফোনালাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলায় কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় কল রেকর্ডটি শুনানো হবে। অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে ইন্টারনেট স্লো করার ব্যাপারে শোনা যায়।

কল রেকর্ডে পলক বলেন, ‘স্লামালাইকুম ভাই, পলক বলছি।’

ওবায়দুল কাদের: ‘এটা একটু স্লো করে দাও, ইন্টারনেট।’

পলক: ‘জ্বি, একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়া নিই।’

ওবায়দুল কাদের: ‘নিয়া নাও।’

পলক: ‘জ্বি আচ্ছা।’

তবে ইন্টারনেট স্লো করা নিয়ে কথোপকথন হলেও কয়েকদিনের জন্য তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে। পুরো দেশকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চালানো হয় নৃশংস গণহত্যা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন প্রসিকিউশন। 

তবে কোনো কিছুই দমাতে পারেনি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে। তাদের প্রবল আন্দোলনের মুখে অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখনো তিনি সেখানেই রয়েছেন।

এএইচ   

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর