জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সাভারে এমআইএসটি শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করার পর এপিসি থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে এ মামলার পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের দেওয়া এ অভিযোগ আমলে নেন।
এদিন শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
আদালত আদেশে অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা ছয়জনকে ইয়ামিন হত্যা মামলায় গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে আগামী ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কী আছে অভিযোগপত্রে?
গত ১৮ জুলাই সাভারের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী ইয়ামিনের ওপর সংঘটিত ঘটনার বিবরণ হুবহু তুলে ধরা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘ওই দিন আনুমানিক দুপুর ২টায় আন্দোলনকারী ছাত্র শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান। সেখানে আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত একটি এপিসি থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করতে থাকে।’
গুলি থামাতে ইয়ামিন এপিসির ওপর উঠে গিয়েছিলেন জানিয়ে বলা হয়, ‘এক পর্যায়ে শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন নিরস্ত্র অবস্থায় এপিসির উপরে উঠে পুলিশকে গুলি বর্ষণে নিবৃত্ত করার জন্য অনুরোধ করেন। আসামি আব্দুল্লাহিল কাফী, শাহিদুল ইসলাম, মো. শাহজামান ও এপিসির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত আসামি এ.এফ.এম সায়েদদের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আসামি মো. মাহফুজ মিয়া ও অন্য একজন পুলিশ সদস্য এপিসির উপরে থাকা নিরস্ত্র শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে লক্ষ্য গুলি করলে তিনি এপিসির উপরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে যায়।’
গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে এপিসি থেকে ফেলে দেওয়ার বর্ণনায় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘এমতাবস্থায় এপিসি পেছনের দিকে চালিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এপিসির ভেতরে থাকা আসামি এএসআই (সশস্ত্র) মোহাম্মদ আলী এপিসির উপরে উঠেন। আসামি নায়েক মো. সুহেল মিয়া এপিসির দরজা দিয়ে বের হন। তারা দুজনে মিলে এপিসিরি উপরে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে এপিসির উপর থেকে মাথা নীচের দিকে দিয়ে সার্ভিস লেনে ছুড়ে ফেলে দেন।’
‘এরপর আসামি মোহাম্মদ আলী ও সুহেল মিয়া গুলিবিদ্ধ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে টানা হেচড়া করে অপর আসামি আওয়ামী লীগ ক্যাডার শরীফ আশরাফুল আলম বাবুলের সহায়তায় রাস্তার ডিভাইডারের উপর দিয়ে ডিভাইডারের অপর পাশে সার্ভিস লেনে মাথা নীচের দিকে দিয়ে ফেলে দেন। শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনের মাথা পাকা রাস্তার উপর পড়ে মারাত্বক আঘাত পায়।’
মুমূর্ষু ইয়ামিনকে উদ্ধারেও বাধা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘এরপর শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে মুমুর্ষ অবস্থায় রোডের উপর ফেলে দেওয়া হয়। তখন একজন পুলিশ পশ্চিম পাশের ফুটপাতের কাছ থেকে ইয়ামিনের দেহের কাছে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনের দেহ গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
‘এরপর ছাত্র-জনতা শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার জন্য সুপার হসপিটাল সাভারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে সাধারণ ছাত্র-জনতা সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন।’
আসামি যারা
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক এবং বাকি ছয়জন অন্য মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন।
আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ।
আরএনবি/এএইচ




