শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন

আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না: রাশনা ইমাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না: রাশনা ইমাম
সিনিয়র আইনজীবী রাশনা ইমাম

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী রাশনা ইমাম।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ১ জুলাই সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত মিটিং অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় রাশনা ইমাম বলেন, আইনে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসক, রোগী ও হাসপাতালকে সুরক্ষিত করতে হবে। আইনটি যাতে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইনটি ভাগ করলে সরকারের খরচ বাড়বে। একটি আইন হলেই ভালো হবে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশে শুধুমাত্র দণ্ডের উল্লেখ আছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন সঠিকভাবে করতে হলে সরকারি/বেসরকারি হাসপাতাল, দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পদ্ধতি, লাইন্সেস প্রদান ও ফি নির্ধারণ, ব্যক্তিগত চেম্বার, পেশাগত নৈতিকতা ও হাসপাতালের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, আইনটি যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। সময় লাগলেও আইনটি প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু আইনে যেন কোনো প্রকার ত্রুটি না থাকে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে এবং সবগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত/ব্যাখ্যা করতে হবে।

তিনি জানান, আইনটি যৌক্তিক, ত্রুটিমুক্ত ও বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। এজন্য প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত এবং এর আওতায় সংশ্লিষ্ট সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে আইনটির ব্যাপ্তি/পরিসর, অন্যান্য দেশের আইন যাচাই, দায়বদ্ধতা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিতকরণের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ ৬০ কর্মদিবস বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিষয়টিতে কমিটির উপস্থিত সদস্যরা একমত পোষণ করেছেন।

ফলে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর খসড়া প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ আরও ৬০ কর্মদিবস বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়ানোয় কমিটিতে নতুন করে দুইজন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। আইনটির খসড়া প্রণয়নের সময়সীমা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে খসড়া প্রস্তুতের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তা সম্পন্ন না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সভায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনকে ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’— এই দুই ভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথমটির কাজ এগোলেও মতভিন্নতার কারণে রোগী সুরক্ষা-সংক্রান্ত অংশের অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে এর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

এর আগে গত ১১ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়। গত ৮ জুন স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার আলোকে এই কমিটি গঠন করা হয়।

এসএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর