বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

আইন পেশায় ডেডিকেশন ও সততা জরুরি

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

আইন পেশায় ডেডিকেশন ও সততা জরুরি

আইনজীবীদের সনদ প্রদানকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কমপ্লেইন্ট এন্ড ভিজিলেন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি প্রয়াত প্রখ্যাত আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের ছেলে ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

প্রয়াত আইনজীবী বাসেত মজুমদারের অর্ধশত বছর উকালতি জীবনে মক্কেলের পক্ষে মামলা করেছেন লক্ষ লক্ষ। জুনিয়র আইনজীবী বান্ধব বাসেত মজুমদার অল্প টাকা ফি নিয়ে আদালতে দাঁড়িয়েছেন নজিরবিহীনভাবে।


বিজ্ঞাপন


মক্কেলের পক্ষে আদালতে অনেক সময় বিনা টাকাও লড়েছেন। এজন্য মিডিয়া তাকে নাম দেন ‘গরিবের আইনজীবী’। দেশবরেণ্য আইনজীবী প্রয়াত বাসেত মজুমদারের সুযোগ্য পুত্র সাঈদ আহমেদ রাজাও ইতোমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন আদালত অঙ্গনে। মানুষের পক্ষে আইনী সেবা ও নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মেইলের সঙ্গে।

ঢাকা মেইল: বার কাউন্সিলে নির্বাচিত আইনজীবীদের জন্য কী ধরনের কাজ করছেন?
সাঈদ আহমেদ রাজা: বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ব্রত নিয়ে আইনজীবীদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছি। তাদের জন্য কাজ করছি। আইনজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। যেমনটি করেছিলেন আমার প্রয়াত বাবা।

ঢাকা মেইল: আইনজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী?
সাঈদ আহমেদ রাজা: আমি সবসময় মনে করি, আইন পেশাটা কিন্তু অন্য দশটা চাকরি-বাকরির মতো চিন্তা করলে চলবে না। আইন প্রফেসনটা আইন প্রফেসনের মতোই চিন্তা করতে হবে। এখানে ডেডিকেশন অনেস্টি (সততা) ও নন প্রোফিটেবল বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। আপনি আইন প্রফেসন করে এখানে বিশাল বাড়ি গাড়ির মালিক হতে পারবেন না। এটি সঠিক আইডিয়া হতে পারে না। আইন প্রফেসনে থাকতে হবে সমাজের উন্নয়ন এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের সাহায্য করা। এই আইডিয়া নিয়ে যখন মানুষ কাজ শুরু করবে, তখন মানুষ বাজে কাজ করবে না।

>> আরও পড়ুন: ‘সারাজীবন বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের ইচ্ছা আমার’


বিজ্ঞাপন


আরেকটি কথা, এমন কোনো কিছু করবেন না যাতে অস্থায়ী বা দ্রুত একটা ভালো কিছু পাবেন। আপনাকে চিন্তা করতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা। মানুষকে করাপসন (দুর্নীতি) করা বা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোনো মামলা করানো উচিত হবে না। এগুলো বন্ধ করাটা খুব বেশি জরুরি। প্রত্যেক আইনজীবীকে পাঁচটা গোল্ডেন বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রতি পাঁচ বছরে আমার পরিকল্পনা। আইনজীবীরা যে কাজ করেন তার একটা স্যোসাল রেসপনসিভিলিট (দায়িত্ববোধ) রাখতে হবে। আইনজীবীদের সাহায্য করা, মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ঢাকা মেইল: মৃত্যুর পর বেনাভোলেন ফান্ডের অর্থ পান আইনজীবীর পরিবারের সদস্যরা, জীবিত থাকা অবস্থায় এটা বাস্তবায়ন করা যায় কী না?
সাঈদ আহমেদ রাজা: বাংলাদেশের এখন ৬০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। আর কিছুদিন পর আইনজীবীর সংখ্যা লাখ পার হয়ে যাবে। আমি ভবিষতে দেখতে পাচ্ছি এখ লাখ দেড় লাখ আইনজীবী হবেন। এটি জাস্ট একটু সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ বিষয়ে সবাই যেন বেনিফিটেড হয় সেই পলিসি নিতে হবে। অনেক আইনজীবী চাবেন আমার পরিবার যেন আমার মৃত্যুর পর টাকাটা পায়, কারণ জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের টাকা থাকে। আবার অনেকেই আর্থিকভাবে দীনতায় থাকার কারণে মনে করেন জীবিত থাকা অবস্থায় এখনই টাকা হলে ভালো হয়। আমার মতে, এ বিষয়ে এমন পলিসি করা উচিত যেটার মধ্যে দুই পক্ষেরই সুবিধা থাকবে।

>> আরও পড়ুন: ‘সেদিন চোখের সামনে কিয়ামত দেখেছি’

ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলে সেখানে টাকাটা জীবিত থাকা অবস্থায় নিতে পারতেন। বার কাউন্সিল তো এমন কিছু না। বার কাউন্সিল আইনজীবীদের জমানো টাকাটাই পরিশোধ করে থাকে। আস্তে আস্তে টাকাটা আইনজীবীদের হাতে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তাদের মারা যাওয়ার পর। আর আরেকটি বিষয় দেখতে হবে আইনজীবীরা এই টাকাটা শুধু বার কাউন্সিল থেকেই পান না। তারা তাদের বার সমিতি থেকেও পান। কাজেই মৃত্যুর আগেই সব আইনজীবীকে বেনাভোলেন ফান্ড থেকে টাকা ফেরত দেওয়া ঠিক হবে না।

ঢাকা মেইল: আপনার বাবার সুপরিচিতি ছিল ‘গরিবের আইনজীবী’ হিসেবে। সেটা কীভাবে ধরে রাখবেন?
সাঈদ আহমেদ রাজা: অবশ্যই ধরে রাখব। ওই ব্রতটা যদি না থাকতো, বাবার গরিবের আইনজীবীর টাইটেলটা এবং মানুষের মানুষের উপকারের বিষয়টা যদি কন্টিনিউ না করতে চাইতাম তাহলে নির্বাচনে এভাবে নেমে পড়তাম না। আমার দীর্ঘ প্রফেসনাল লাইফে আমি কোনোদিন কোনো কিছু চাইনি। আমার বাবা যখন চলে গেলেন তখন আমি মন থেকে ফিল করলাম যে, এই নদীটাকে শুকিয়ে যেতে দেওয়া যেতে পারে না। বাবার মতো বাবার আদর্শ, বাবার চিন্তা ভাবনা এগুলো একটা নদী। এই নদীটাকে শুট কন্টিনিউ করতে হবে। এই নদীটা বহমান থাকা উচিত।

ঢাকা মেইল: আপনার বাবার গরীবের আইনজীবী টাইটেল কে দিয়েছিল?
সাঈদ আহমেদ রাজা: দেখুন আমি যখন কোর্টে আসা শুরু করেছি, তখন এই অঙ্গনে আইনজীবী সহকর্মী ছিলেন। সঙ্গে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা আইন বুঝতেন আইন নিয়ে লেখালেখি করতেন। কিন্তু তারা উকালতি করতেন না। তারা হলেন ল রিপোর্টার। এই ল রিপোর্টাররা আমার বাবার কাজ দেখে তাকে উপাধি দিয়েছিলেন গরীবের আইনজীবী।

উল্লেখ্য, আব্দুল বাসেত মজুমদার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিকবার নেতৃত্ব দিয়েছেন আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের।  তার সুযোগ্য পুত্র সাঈদ আহমেদ রাজাও বাবার মতো আইন অঙ্গনে নাম কুড়িয়েছেন জোরেশোরেই। বার কাউন্সিল নির্বাচনে সব প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

এআইএম/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর