মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়ে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
সেই প্রস্তাবে সায় দিয়ে এবার যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পরমাণু চুক্তি-সহ সাত দফা শর্ত দিল তেহরান। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু চুক্তি বা হরমুজ় প্রণালি খোলার বিষয়ে কোনও আলোচনা করা হবে না। খবর রয়টার্সের।
অন্য দিকে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পরও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। ট্রাম্পের দাবি, বর্তমানে আগের চেয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে।
ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের মধ্যে রয়েছে—
১. সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
২. বাজেয়াপ্ত করা ইরানি সম্পদ (যার অঙ্ক প্রায় ১২০০ কোটি ডলার) মুক্ত করা।
৩. ইরানের বন্দরগুলির উপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া।
৪. লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের পুরোপুরি অবসান ঘটনো।
৫. সামগ্রিক ভাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো।
৬. যুদ্ধ-সম্পর্কিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৭. ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন আক্রমণ স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা।
গত ৪ নভেম্বর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির আঁচ মিলতেই উল্লাস প্রকাশ করেছিল তেহরান।
সে দিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারত, চীন, ইরাক এবং কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার।
তার আগে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির শীর্ষনেতৃত্বের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই নতুন সাত দফার শর্ত দিল মোজতবা খামেনির সরকার।
-এমএমএস




