যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবেন?
জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তখন আমি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে যাব। আমি তাদের সবকিছু নষ্ট করতে দেব না।”
ট্রাম্প আরও জানান, ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন আইনপ্রস্তাব তার কাছে পাঠাবে এবং তিনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক বা দুই মাস সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন যে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনায় আসবেন এবং সমঝোতার মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘তারা প্রস্তাব পাঠাবে, আপনি ভেটো দেবেন। এক বা দুই মাস সবকিছুতে ভেটো দেওয়ার পর তারা বুঝবে সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আসবে এবং আপনার সঙ্গে সমঝোতা করবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করছেন রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে ভালো করবে এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। তাহলে তাঁকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যদি জিততে না পারি, তাহলে আমি সবকিছুতে ভেটো দেব। ভেটো দিতে থাকব। এরপর তারা আসবে এবং আমরা কিছু বিষয়ে সমঝোতা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটোই চূড়ান্ত নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য পুনরায় বিলটির পক্ষে ভোট দিলে সেই ভেটো অগ্রাহ্য করা সম্ভব।
দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প মাত্র দুবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তবে তার প্রথম মেয়াদে ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে কীভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস আগে থেকেই পরিকল্পনা করছে। অভিবাসন, শুল্কনীতি, আবাসন ব্যয় ও সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি এবং নথিপত্র তলবের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটি প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র খুলতে শুরু করে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির জন্য ভোট হচ্ছে। বর্তমানে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা।
সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি
এমএইচআর




