বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

অন্ধ্র প্রদেশে তাণ্ডব চালিয়ে ওড়িশ্যার দিকে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

অন্ধ্র প্রদেশে তাণ্ডব চালিয়ে ওড়িশ্যার দিকে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা থেকে তাণ্ডব চালিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূল অতিক্রম করেছে। 

এ সময় ঝড়ের গতি অতি তীব্র ছিল, যার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি এখন ওড়িশ্যা ও ছত্তিসগড় রাজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে ভারি বৃষ্টিতে পরিণত হয়। অন্ধ্র প্রদেশের কাঁকিনাড়া জেলায় সমুদ্রের পানি রাস্তা পার করে এসে লোকজনের বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে। বহু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও ভারি বৃষ্টি, প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় ওড়িশ্যা রাজ্যে ৩১৩টি উদ্ধার দল মোতায়েন করেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী এ তথ্য জানান।

প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যাচাইয়ে ভুবনেশ্বরের রাজ্য জরুরি অভিযান কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন পূজারী।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় প্রথম কাকিনাড়ায় স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে এবং অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের দিকে সরতে থাকে। 

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্যবস্থাটি এখন স্থির আছে। অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে ঢোকার পর এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে মালকানগিরি পৌঁছাবে।

সরিয়ে নেওয়া মানুষজনকে রাখতে মোট দুই হাজার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজারী আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীদেরও নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে এবং সব মাছ ধরার নৌকা তীরে ফিরে এসেছে। 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আইএমডির কেন্দ্রগুলোতে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতেও মেঘলা আকাশ এবং ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ছত্তিসগড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রাজ্যের বস্তার-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় বুধ ও বৃহস্পতিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

ছত্তিসগড় সরকার ইতোমধ্যেই সব জেলার প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রেখেছে এবং ২৪ ঘণ্টা ত্রাণ শিবির চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর