শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সুস্থ থেকেও কেন আড়ালে মোজতবা খামেনি?—জানালেন ইরানি কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

সুস্থ থেকেও কেন আড়ালে মোজতবা খামেনি?—জানালেন ইরানি কূটনীতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেছেন ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মাজিদ হাকিম এলাহি। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসছেন না বলে জানান ইরানি জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন এলাহি। 

তিনি বলেন, ‘মোজতবা খামেনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। এছাড়াও আমাদের সংসদের স্পিকার গতকাল বলেছেন, তিনি তার সঙ্গে বহু ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছেন’। 

এলাহি বলেন, ‘আমার কিছু বন্ধু আছেন যারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, তিনি খুবই, খুবই, খুবই সুস্থ আছেন এবং খুব ভালোভাবে নিজের কাজ করছেন।’

বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে, নিরাপত্তা জরিত কারণে মোজতবা তার বাবা আলী খামেনির শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ইরানি এই কূটনীতিক সেই দাবি নাকচ করে জানান, নিরাপত্তার কঠোর বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি ক্যামেরার সামনে আসেননি, কিন্তু তিনি জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন।

এলাহি বলেন, ‘তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি এবং কেউ তাকে দেখেনি। কিন্তু তিনি তার বাবার জানাজাতেও অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় আমি ইরানে ছিলাম। আমি তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছি। মোজতবা খামেনিও সেখানে ছিলেন।’ 

তিনি আরও দাবি করেন, ‘মোজতবা কখনো কখনো রাতের বেলায় রাস্তায় বের হন এবং ইরানের জনগণের সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন’।

এরআগে গত ১০ আগস্ট ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার প্রায় সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আবাসন ও নিষেধাজ্ঞাজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। 

এছাড়া গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে মোজতবা খামেনির বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয়।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐক্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন। এরপর তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। এমনকি বাবার শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট শোকানুষ্ঠানেও তার অনুপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এছাড়াও হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত এবং তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দাবি করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।  

তবে ইরানি কর্মকর্তারা তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য প্রকাশ করা বিপজ্জনক হতে পারে। 

এদিকে মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি শুধু তার স্বাস্থ্য নিয়েই নয়, ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনা ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রশ্ন ওঠে তিনি সরাসরি জনসমক্ষে না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বজায় থাকছে?

অন্যদিকে ইরানি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।


সূত্র: এনডিটিভি


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর