ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়ে তার ছেলে তথা বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার শাশুড়ি তায়্যেবেহ মাহরুযাদেহ। এমনকি নিজ চোখে মোজতবাকে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি ইরানি সংবাদমাধ্যম আখবার মাশহাদ-কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মাহরুজাদেহ বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের রাতে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তিনি নিজ চোখে মোজতবাকে দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মোজতবা খামেনি শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, বরং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন’।
প্রসঙ্গত, মাহরুজাদেহ হলেন ইরানের প্রভাবশালী নেতা গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী এবং মোজতবা খামেনির প্রয়াত স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের মা। জাহরাও ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন।
এদিকে মাহরুজাদেহর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন মোজতবা।
এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতি দিচ্ছেন, জনসমক্ষে আসেননি বা এখন পর্যন্ত তার বর্তমান কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি।
এমনকি জুলাইয়ে আলি খামেনির দীর্ঘ কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যেও মোজতবার অনুপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। তার ভাই মোস্তফা, মাইসাম ও মাসউদসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাজায় দেখা গেলেও মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এতে তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসন করার ক্ষমতা এখনও অনেকাংশেই একটি রহস্য হয়ে রয়েছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা মোজতবার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলেছিলেন।
তাদের বক্তব্য ছিল, ইসরায়েলের হুমকির কারণে এত বড় জনসমাবেশে মোজতবার প্রকাশ্যে আসা বিপজ্জনক হতে পারে।
এরআগে মার্চ মাসে কিছু পশ্চিমা ও কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় মোজতবাকে চিকিৎসার জন্য গোপনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির রাজধানী মস্কোতে চিকিসৎসা চলছে।
পরবর্তীতে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর অস্বীকার করে বলেছে, মোজতবা খামেনির মস্কোতে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।
এছাড়াও মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর আঘাত লেগেছে।
তবে ইরান সরকার বরাবই দাবি করে আসছে, সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।
সূত্র: ইরানওয়্যার
এমএইচআর




