সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবারের এ হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় আঘাত হানার চেষ্টাকারী একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হন।
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী ও সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ইয়েমেনি হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলা চালায়। ১০ অক্টোবর দুপুর সোয়া ৩টায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে হামলা চালানো হয়, তা সৌদিতে নিকট অতীতে চালানো সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা।
ওই হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। পরদিন একই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
১২ অক্টোবর দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হামলা চালায়।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত দাম্মাম শহরটি রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৪১০ কিলোমিটার বা ২৫৪ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোর একটি।
এদিকে হুতিদের চলমান হামলার মধ্যে বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বুধবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এতে সৌদি আরবে হুতিদের আরও হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর




