মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যে ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে তাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়। খবর রয়টার্সের।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে।
বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে বৈঠকের বিস্তারিত কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরকার।
ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে এ সফর হয়। এর এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান।
একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনে নেতানিয়াহু বলেন, দুই মিত্রের এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে। আপনি এ কথা বলেছেন, আর আমরা একসঙ্গে তা শেষ করব।’
আরও পড়ুন:
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইসরাইল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করেছে।
তবে নতুন হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসার অবস্থানে রয়েছে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তিনি আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালাতে চান না। ট্রাম্পও বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না।
দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের পথে এগোবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ওভদা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন থাকায় বৈঠকের স্থানটি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে।
দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় উড়তে এবং দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ওভদা বিমানঘাঁটিতে যান। সংবাদমাধ্যমটি বৈঠকটিকে ব্যতিক্রমী দীর্ঘ বলেও উল্লেখ করেছে।
তবে বিমানঘাঁটিতে বৈঠক হওয়া কিংবা সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকাই নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ নয়।
হেগসেথের এই আকস্মিক ইসরায়েল সফর এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
-এমএমএস




