ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চোরবাজার সর্বজনীন পূজা প্যান্ডেলে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা হলো সেই বিষয়ে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বার্তাসংস্থা এএনআইকে বিনয় কুমার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে এর সূত্রপাত হয়। এরপর এটি প্রানহানিকর দুর্ঘটনার মাধ্যমে শেষ হয়।
বিনয় কুমার বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে। প্যান্ডেলে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে ওই মানুষগুলো আর সেখান থেকে বের হতে চাননি। এরমধ্যে আরও মানুষ প্যান্ডেলে ঢোকার চেষ্টা করলে ব্যাপক চাপাচাপি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রশাসন সেখানে পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। কিন্তু তারা মানুষের ঢল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
এরমধ্যে জানা গেছে, প্যান্ডেল কমিটি মানুষকে বের হয়ে যেতে বারবার তাগাদা দিতে থাকে। এক সময় প্যান্ডেল থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় বেশি মানুষ থাকলে এটি ভেঙে পড়বে। ওই সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। যা কেড়ে নিয়েছে ১৯ জনের প্রাণ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৫ জন। যারমধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আর বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে ডি গ্রেডের সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর আহতদের ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। এতে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুভেন্দুও প্যান্ডেল কমিটির একটি ঘোষণার কথা বলেছেন, যে কারণে এই পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় পূজা প্যান্ডেল কমিটির সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। আর বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
সূত্র: এএনআই
এফএ




