যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য উইসকানসিনের সাউক জেলায় একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জেলার রীডসবার্গ শহরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বুধবার ( ১৪ অক্টোবর) সাউক জেলা শেরিফের (প্রধান আইন কর্মকর্তা) দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনার সংবাদ শেরিফের দপ্তরে আসে। খবর এবিসি নিউজের।
খবর আসার পর শেরিফের ডেপুটি এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানটিকে খুঁজে পান।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে শেরিফের কর্মকর্তারা জানান, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু ছিল। উইসকনসিনের কেনোশা শহর থেকে মেনোমোনির দিকে ফিরছিল উড়োজাহাজটি।
শেরিফের দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানটি একটি ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযানের সময় বিমানের ছয় আরোহীর সবাইকেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে নিহতদের নাম-পরিচয় আপাাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরিফের দপ্তার।
শেরিফের দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিমানটি সম্ভবত কাছাকাছি কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল।
“এখন আমরা জানার চেষ্টা করছি যে সেই যোগাযোগে কী বলা হয়েছিল এবং ওই এলাকায় কোনো আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনা এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না”, বলেছেন এক কর্মকর্তা।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ছিল একটি পাইপার পিএ-৪৬ মডেলের বিমান।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের অধীন সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, “উড়োজাহাজটি ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় পাইলট বরফ জমার (আইসিং) কথা জানান এবং নিচে নামার (ডিসেন্ড) অনুমতি চান।”
এনটিএসবি জানায়, “এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল নিচে নামার অনুমতি দেয়। এরপর উড়োজাহাজটি ডান দিকে মোড় নিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে এই নামার গতি বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ ও ডেটা ট্র্যাকিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"
এনটিএসবি জানিয়েছে, ‘দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি’ উদ্ঘাটনে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তারা জমা দেবেন।
-এমএমএস




