ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি তেল স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অবিলম্বে বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিবৃতিতে সানার ‘আল-সাবাহ সেন্ট্রাল স্টেশন’ (ইয়েমেনি তেল কোম্পানি)-এর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সানার ‘আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে সাধারণ মানুষকে তাদের নিরাপত্তার জন্য সরে যাওয়ার অনুরোধ করছে’।
قيادة القوات المشتركة للتحالف تطلب من المدنيين إخلاء موقع شركة النفط اليمنية / محطة الصباحة المركزية بصنعاء بحسب الخارطة التوضيحية للموقع، وذلك لسلامتهم. https://t.co/grg2zVDpS9
— المتحدث الرسمي باسم قوات التحالف (@CJFCSpox) October 13, 2026
এরআগে এক পোস্টে সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেন, ‘সানায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে ‘নির্ভুল সামরিক অভিযান’ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অভিযানের আগে বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ হচ্ছে’।
তবে সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট সময় কিংবা অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি তিনি।
এদিকে সৌদি জোটের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোর আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সানায় যেকোনো হামলার জবাবে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দাম্মামের সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ফলে এ মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে এসব স্থাপনা থেকে সরে যাওয়া এবং দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীরা ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হন, যার ফলে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জবাবেই সৌদি জোট এই বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেয়।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




