সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে বিশ্বের ৭টি দেশ। তালিকায় রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
আলজাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরবে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
সতর্কতাগুলোর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ স্থগিত রাখা এবং ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ।
এছাড়াও কয়েকটি দেশ সৌদি আরবের নির্দিষ্ট শহর ও অঞ্চলে ভ্রমণ সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
কোন দেশ কী সতর্কতা দিয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্র: সৌদি আরবে ভ্রমণের প্রয়োজন পুনর্বিবেচনা করতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্য: জেদ্দা ও দাম্মামসহ কয়েকটি এলাকায় শুধু অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর। মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কানাডা: সৌদি আরবের যেকোনো এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে দেশটির সরকার।
অস্ট্রেলিয়া: রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগ। অন্য সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে ভ্রমণের প্রয়োজনও পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড: রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির অঞ্চলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতেও বলা হয়েছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: দুই দেশই নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া অত্যাবশ্যকীয় কাজ ছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের দেশ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং পরিকল্পিত ভ্রমণ বাতিল করতে বলেছে।
প্রসঙ্গত, ইরান সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সপ্তাহজুড়ে রিয়াদসহ সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দেশটির বিমান যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বিশেষ করে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা যাত্রীদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং আঞ্চলিক আকাশপথের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন।
সেই রেশ না কাটতেই রোববার (১১ অক্টোবর) বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় আবারও হামলা চালায় হুথিরা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি অজ্ঞাত বস্তু বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ আঘাত হানে। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১১ জন আহত হন।
এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আভা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরও হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, ব্যবসায়ী, ওমরাহযাত্রী ও অন্যান্য ভ্রমণকারী দেশটিতে যাতায়াত করেন। ফলে সৌদি আরবের বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে অন্তত ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের তিনটি করে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি করে ফ্লাইট রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




