সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে তাদের পরিচয় জানা গেছে। নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা মোছা. শাহেরা বেগম।
অপর নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল বিকাল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে।
এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুর্ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩ শতাধিক মানুষ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর দুই দিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) চালানো দ্বিতীয় দফার এই হামলায় অন্তত ১ জন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। খবর আর-জাজিরার।
সৌদি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে যাত্রীদের একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় পাকিস্তানি এক বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার একই বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি, চার জন সৌদি নাগরিকসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিক ছিলেন।
আরও পড়ুন: রিয়াদের পর এবার দাম্মামেও হুতির হামলা
হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই জোড়া হামলার দায় স্বীকার করে সতর্ক করেছেন যে, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তারা দাম্মাম বিমানবন্দর ও বিভিন্ন তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সম্প্রতি সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবেই তারা এই ক্রমবর্ধমান অপারেশন শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হুথিদের ওপর হামলা চালানো হবে কি না সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে হওয়া একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর সহিংসতা চরম আকার ধারণ করে।
হুথিরা বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা এবং দেশের ৮০% জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, এর ফলে তাদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি ইরানি স্যাটেলাইট বা পুতুল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের (হুথি প্রশাসন) মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তার দেশ সহায়তা করতে প্রস্তুত।
-এমএমএস




