এবারের শীতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঠাণ্ডায় কাঁপবে কানাডা। এত ঠাণ্ডা পড়বে যে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। এমন তীব্র শীতের জন্য কানাডিয়ানদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম সিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
উইন্টার ওয়েদার ফোরকাস্টের সর্বশেষ সংখ্যায় এমন তথ্য দিয়েছে ফার্মার্স অ্যামানাক। এটি একটি বার্ষিক আমেরিকান সাময়িকী, যা ১৮১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। লিউইস্টন, মেইনের গেইগার দ্বারা প্রকাশিত ফার্মার্স অ্যালমানাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার দীর্ঘ-পরিসরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করে।
বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক সাময়িকী সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা শীতের পূর্বাভাস দিচ্ছে। পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে রকিজ এবং প্রেইরির মতো এলাকায় তাপমাত্রা -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। ভারী তুষারপাতের শিকার হতে পারে কুইবেক এবং অন্টারিও।
আরও পড়ুন: বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি বন্ধ করছে কানাডা
দ্য ফার্মার্স অ্যালমানাক সতর্ক করে বলেছে, 'দ্য মেরিটাইমসে প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। এছাড়া সেখানে অনেক দিন তুষার, ঝিরি, বরফ এবং বৃষ্টি মিলে শীতের মিশ্র ঝড় হবে।'
বিজ্ঞাপন

প্রকাশনাটি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, ল্যাব্রাডর এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং গ্রেট লেকের মতো অঞ্চলগুলো শীতের বৃষ্টিপাতকে তুষারপাতের মতো দেখতে পাবে। এটি কখনও কখনও অনেক বেশি পরিমাণে হতে পারে।
কিন্তু দ্য ফার্মার্স অ্যালমানাকের পূর্বাভাস কতটা নির্ভুল? প্রায় একই নাম দ্য ওল্ড ফার্মার্স অ্যালম্যানাক নামের আরেকটি প্রকাশনা আছে। তারা ১৮ মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। আর দ্য ফার্মার্স অ্যালমানাক দেয় ১৬ মাসের।
আরও পড়ুন: প্রয়োজন দশ লাখ কর্মী, নাগরিকত্বসহ নানা সুযোগের ঘোষণা কানাডার
দুটি প্রকাশনাই আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার করে। সেটি হলো- সূর্যের অবস্থান, চাঁদের পর্যায়, জলবায়ু চক্র ও আবহাওয়াবিদ্যা। ২০০ বছর ধরে নিজস্ব কিছু পদ্ধতিও অনুসরণ করে তারা।

ফার্মার্স অ্যালম্যানাক জানিয়েছে, তাদের সম্পাদকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের কম্পিউটার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং সরঞ্জাম, আবহাওয়ার জ্ঞান বা গ্রাউন্ডহগ ব্যবহার করাকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তারা একটি নির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য নিয়ম ব্যবহার করেন, ১৮১৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল।'
যদিও এর ফলাফল সবসময় শতভাগ সঠিক হয় না। তবে তাদের ভবিষ্যতবানী অনেকাংশেই মিলে যায়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বে যেভাবে পড়ছে, তাতে ঋতুর চরিত্রে যে বড় বদল আসবে তার ধারণা সাধারণভাবেই করা যায়।
একে




