বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মক্কা চুক্তি: সৌদিতে সেনা মোতায়েন নিয়ে নিজ দেশেই তোপের মুখে এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মক্কা চুক্তি: সৌদিতে সেনা মোতায়েন নিয়ে নিজ দেশেই তোপের মুখে এরদোয়ান

ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ দেশেই তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তুরস্কের বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে— মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে রক্ষার নামে শেষ পর্যন্ত কি তুর্কি সেনারা ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে?

বুধবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, পাইলট ও বিমানসহ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তুর্কি কমান্ডো মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

গত সোমবার রিয়াদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে তিন দেশ তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

তবে ঠিক কত সেনা পাঠানো হবে, কোন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে, বাহিনীর নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে এবং কতদিন এই মিশন চলবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

তুরস্কের বিরোধী দলগুলো এ সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। 

বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) এমপি নামিক তান জানতে চেয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আদৌ বাধ্যতামূলক প্রতিরক্ষা চুক্তি, সমঝোতা স্মারক নাকি যৌথ ঘোষণা।

তিনি সতর্ক করেন, পার্লামেন্টে অনুমোদনের আগেই উপসাগরীয় অঞ্চলে তুর্কি সৈন্য মোতায়েনের যেকোনো সম্ভাবনাকে ‘সাংবিধানিক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

তুরস্কের গুড পার্টির (আইওয়াইআই) জ্যেষ্ঠ নেতা তুরহান কোমেজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেখানে সৌদি আরবকে রক্ষায় তুর্কি সেনাদের ইয়েমেনের মরুভূমিতে পাঠাতে হবে, তা হবে সংবিধান লঙ্ঘন। 

অবসরপ্রাপ্ত তুর্কি রিয়ার অ্যাডমিরাল ইয়ানকি বাগচিওগ্লুও সতর্ক করেছেন, তুরস্ক যদি ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে দেশটির সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ হুথিদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১০ সালে সৌদির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় তুরস্কের কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এরই মধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে। এগুলো মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। 

নতুন পরিকল্পনায় আরও সরঞ্জাম, প্রযুক্তিবিদ, জরুরি সাড়া দেওয়ার দল এবং প্রয়োজন হলে সীমিতসংখ্যক সামরিক কমান্ডো পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রিয়াদ, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা এবং আবকাইক থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে যাওয়া পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পশ্চিমাংশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিতসংখ্যক কমান্ডো, অভিজ্ঞ পাইলট ও বিমান মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে তুর্কি সৈন্য মোতায়েনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন; কিন্তু প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সরকার এখনও এ ব্যাপারটি পার্লামেন্টে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করতে পারেননি।

গত ৭ আগস্ট তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, জেরুজালেম পোস্ট

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর