রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘যুক্তরাষ্ট্র ৭ শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘যুক্তরাষ্ট্র ৭ শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে’

যুক্তরাষ্ট্র সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূরনিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানান। 

বাঘের গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট— একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়া কিংবা আলোচনায় সময়ক্ষেপণের সময় শেষ হয়েছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা বা ইসলামাবাদ সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি চালু হবে না।

কী সেই ৭ শর্ত?

যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান সরকার। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে যে সাতটি শর্তের কথা প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা সমুদ্র অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিতে হবে। তৃতীয়ত, ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

চতুর্থ শর্ত হলো— ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও হুমকিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

পঞ্চম শর্ত হিসেবে ইরান যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসনের অবসান চেয়েছে; যার আওতায় ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি রয়েছে।

ষষ্ঠ শর্তে ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে। 

সপ্তম শর্তে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে।

এরআগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। 

তিনি আরও জানান, ইরানের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রফতানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত জুনে দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। 

তবে পরবর্তী সময়ে সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হুহু করে বেড়ে গেছে।

সূত্র: আলজাজিরা, ডন


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর