রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা’ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী বেসামরিক নাগরিকদের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রাজধানী তেহরানে বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। 

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানিয়েছেন, কর্মসূচির আওতায় সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও ফিল্ড-গ্যারিসন এলাকায় মোতায়েন করা হবে। 

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবী নাগরিকদের প্রথমে মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে আগ্রহী ও নির্বাচিত ব্যক্তিদের জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তেহরানে চালু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্য-ভিক্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) তেহরানে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য তিনটি সশস্ত্র প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে সামরিক সদস্যদের মহড়া প্রদর্শনের পাশাপাশি রকেট লঞ্চার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সামরিক সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়। 

সামজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তরুণদের পাশাপাশি নারীদেরও কিছু প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। 

এর আগে তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে প্রথম ‘জানফাদা’ প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। ‘জানফাদা’ অর্থ নিজের জীবনকে কোরবানি দেওয়া বা আত্মউৎস্বর্গ করা। এই কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। 

iran2

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জানফাদা’ উদ্যোগটি সামনে আসে।

ইরানের কর্তৃপক্ষের এই প্রচারণার লক্ষ্য হলো স্বেচ্ছাসেবী বেসামরিক নাগরিকদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করা, যাতে তারা প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে। সেপ্টেম্বরে তেহরানে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় ধরনের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানি রাষ্ট্রীয় সূত্র এর আগে জানিয়েছিল, ৬ লাখের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছে। 

এক হাজার ব্যাটালিয়ন তৈরির পরিকল্পনা

ইরানের আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিভাগের উপপ্রধান আলি কাওসারি জানিয়েছেন, বেসামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের জন্য ১ হাজার ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

তিনি জানান, সম্ভাব্য নতুন হামলার মুখে দেশের জনগণকে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এর আগে বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েবও জানিয়েছিলেন, ‘জানফাদা’ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবীদের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ইউনিট ও ব্যাটালিয়নে সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও উন্নত—দুই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের আশঙ্কা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে ‘জনগণকে প্রতিরক্ষার অংশীদার’ করার নীতি অনুসরণ করে আসছে।

তেহরানের এই উদ্যোগকে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের অনেকে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিভিন্ন শত্রুদের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য দেশটি নিজেদের নাগরিকদের প্রস্তুত করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আলজাজিরা

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর