রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

লন্ডন নিউইয়র্কের পর বার্লিনও পেতে যাচ্ছে মুসলিম মেয়র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

লন্ডন নিউইয়র্কের পর বার্লিনও পেতে যাচ্ছে মুসলিম মেয়র!

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের মেয়র হওয়ার পথে এগোচ্ছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক এলিফ এরাল্প (৪৫)। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহর নিউইয়র্কের পর এবার ইউরোপের প্রভারশালী দেশ জার্মানির বার্লিনও পেতে যাচ্ছে মুসলিম মেয়র।

২০ সেপ্টেম্বরের রাজ্য নির্বাচনে তার দল ডি লিংকে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নতুন সরকার গঠনের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জোট গঠনে সমঝোতা হলে এরাল্পই শহরটির নতুন মেয়র হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ডি লিংকে, গ্রিন পার্টি ও সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে অনুসন্ধানী আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। 

২৬ সেপ্টেম্বর ডি লিংকের দলীয় সম্মেলনে গ্রিন পার্টি ও এসপিডির সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন প্রতিনিধিরা। পরে এসপিডিও এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তিন দলের মধ্যে এখনো কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচনে ডি লিংকে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন বা সিডিইউ পেয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। 

এছাড়া অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং এসপিডি ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ডি লিংকে ১২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

burline

বার্লিনের রাজনীতিতে ডি লিংকের এই উত্থানের পেছনে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। 

এরাল্প প্রচারে বড় করপোরেট মালিকানাধীন দুই লাখের বেশি আবাসিক ইউনিট জনস্বার্থে অধিগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

এ কারণে তার প্রচারণাকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির আবাসন ব্যয় কমানোর প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

তুর্কি বংশোদ্ভূত ৪৫ বছর বয়সী মুসলিম নারী এরাল্প একজন আইনজীবী। তার বাবা-মা ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে জার্মানিতে চলে যান। 

এরাল্প ১৯৮১ সালে মিউনিখে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২১ সাল থেকে বার্লিনের রাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির পর বার্লিনের মেয়র পদেও অভিবাসী পরিবারের পটভূমির একজন রাজনীতিকের আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

এরাল্প মেয়র হলে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও বার্লিনের মতো বড় শহরের নেতৃত্বে অভিবাসী পরিবারের পটভূমির রাজনীতিকদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে। 

তবে এরাল্পের মেয়র হওয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তার দল ডি লিংকে বর্তমানে গ্রিন পার্টি ও এসপিডির সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের বাবা-মা ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে যান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এরাল্পকে ‘জার্মানির জোহরান মামদানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির প্রচারণার সঙ্গে এরাল্পের আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর রাজনৈতিক বক্তব্যের মিলও তুলে ধরা হয়েছে।

এরাল্প মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি বার্লিনের প্রথম ডি লিংকে মেয়র হওয়ার পাশাপাশি তুর্কি বংশোদ্ভূত শহরটির প্রথম মেয়রও হবেন। তবে সেই পথ এখনো জোট আলোচনার ওপর নির্ভরশীল।

বার্লিনের নির্বাচনের ফল জার্মানির প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে। একই নির্বাচনে ডি লিংকের পাশাপাশি এএফডির ভোটও বেড়েছে। 

ডি লিংকে ২০২৩ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়েছে, আর এএফডির ভোট বেড়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

তবে সম্ভাব্য জোট সরকারকে কিছু রাজনৈতিক বিতর্কও সামলাতে হবে। ডি লিংকের স্থানীয় কিছু শাখার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে গ্রিন পার্টি ও এসপিডির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। 

এরাল্প বলেছেন, বার্লিনে ইহুদি, মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অগ্রাধিকার এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রশংসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর