ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, শুক্রবারের ব্যাপক ধরপাকড়ের পর শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ)-সহ বিভিন্ন সংগঠন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে প্যাটেল চক থেকে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে জড়ো হতে শুরু করলে আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধও জারি করা হয়।
তবে প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। তবে মাঝপথে সেই মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ ব্যপক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা সদস্য কপিল সিব্বল, এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ কয়েকজনকে আটক করে।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মূল আপত্তি ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
এর আগে গতকাল শুক্রবারও দিল্লিতে একই দাবিতে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়। আম আদমি পার্টি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের কর্মীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয় এবং প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে। সেই তালিকায় ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আপ নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, যোগেন্দ্র যাদব এবং নেহা বোরাও। পরে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবারের বিক্ষোভের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ তিনটি এফআইআরও দায়ের করেছে। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দুটি এবং কনট প্লেস থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, সরকারি কর্মীর কাজে বাধা এবং বলপ্রয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়েছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএইচআর




