হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই জবাব পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরান সরকারের মুখ্যপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (আব্বাস আরাঘচি) নিউইয়র্ক সফর এবং সেখানে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠক ও সাক্ষাতের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তাবিত শর্ত উপস্থাপনের বিষয়টিও ছিল।’
মোহাজেরানি আরও বলেন, আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে উপস্থাপন করেছেন।
এদিকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্য প্রস্তাবের বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং কোন পদক্ষেপ আগে বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে।
গত সপ্তাহে ইরান সাত দিনের একটি আস্থাবর্ধক পরিকল্পনা প্রস্তাব করে। এতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারসহ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
তেহরান তখন জানিয়েছিল, তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যান পায়নি। এরপর কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ আবারও শুরু হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে আলোচনায় যে নথি ঘুরছে, সেখানে সাত দিনের একটি আস্থাবর্ধক প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য গত জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতার একটি আরও শক্তিশালী সংস্করণে ফিরে যাওয়া। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরাঘচি বুধবার তেহরানে ফিরে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে কাতার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে হরমুজ প্রণালি কবে এবং কী শর্তে পুরোপুরি খুলবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে মতপার্থক্য কতটা দ্রুত মেটানো যায় তার ওপর।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর




