বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মার্কিন ভোটারদের ২৬ পৃষ্ঠার খোলা চিঠি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মার্কিন ভোটারদের ২৬ পৃষ্ঠার খোলা চিঠি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের কংগ্রেস থেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ২৬ পৃষ্ঠার এক খোলা চিঠিতে মার্কিন নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানায় ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী।

চিঠিতে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমেরিকার বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে।’

একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, চিঠিটি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের আচরণ পরিবর্তন করবে—এমন প্রত্যাশা তাদের নেই। তবে মার্কিন জনগণ যদি বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে পারে, তাহলে তারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিঠিতে ইরানকে চলমান যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করাসহ যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর কোনোটি অর্জিত হয়নি বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি স্থাপনা এবং কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাসহ তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে হামলা চালিয়েছিল, তা অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

একই সঙ্গে চিঠিতে ইরানের জনগণ ও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিলের কথাও তুলে ধরেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, দুই দেশের সাধারণ মানুষই ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ইরানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা এসেছে। 

চিঠিতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েলকে সমর্থন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। ২৩ বছর পর ইরাক থেকে শেষ মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার পতনের পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল এই প্রত্যাহারের মাধ্যমে।

তেহরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই প্রত্যাহারকে নিজেদের জন্য সাফল্য হিসেবে দেখছে। 

বিশ্লেষকরাও সতর্ক করেছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার ফলে দেশটিতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। 

ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের বিষয়ে তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে। প্রস্তাবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। 

রয়টার্স জানিয়েছে, কাতার দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে আইআরজিসির প্রকাশ্য রাজনৈতিক আহ্বান এবং ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার—দুটি ঘটনাই ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের সামরিক ও রাজনৈতিক দুই দিকের পরিবর্তনকে সামনে এনেছে।

সূত্র: রয়টার্স


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর