বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মাঝ আকাশে ২ পাইলটের হাতাহাতি-ছুরিকাঘাত, ইসরায়েলগামী বিমান নামল সৌদিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

মাঝ আকাশে ২ পাইলটের হাতাহাতি-ছুরিকাঘাত, ইসরায়েলগামী বিমান নামল সৌদিতে

দুবাই থেকে তেলআবিব যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে তুমুল হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুই পাইলট। এরপর্যায়ে এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের হাতাহাতির জেরে দু’মিনিটে উড়োজাহাজ নেমে গিয়েছিল ১৬ হাজার ৬০০ ফুট।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আমিরাত-ভিত্তিক বিমান পরিষেবা সংস্থা ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ঘটেছে এ ঘটনা। পরে এটি সৌদি আরবে অবতরণ করে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।

ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে তেলআবিবের বেন গুরিয়ন বিমন বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পাইলটরা যখন হাতাহাতিতে জড়ান, সে সময় ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ছিল উড়োজাহাজটি।

এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পাইলটদের হাতাহাতির মধ্যেই বিমানটি থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়। সাধারণত ছিনতাইয়ের শিকার হলে হলে এমন সংকেত পাঠানো হয় উড়োজাহাজ থেকে।

সংকেত পাঠানোর পর বেন গুরিয়ন বিমান বন্দরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। তবে পরে জানা যায়, ছিনতাই সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে সংকেত পাঠানোর পর গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। 

তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং যাত্রীরাও সাবই নিরাপদ আছেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা বা ঝগড়ার সময় বিমানের জরুরি সংকেতটি সক্রিয় করা হয়েছিল। 

ইসরায়েলের দৈনিক টাইমস অফ ইসরায়েলের দাবি, হাতাহাতির সময় সময় একজন পাইলট ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন।ছুরির আঘাতটি এতটাই বড় ছিল যে, পাইলটের পরিহিত শার্ট রক্তে ভিজে যায়।

কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, একজন পাইলট আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিমানটিকে খাড়াভাবে নিচের দিকে নামানো শুরু করেছিলেন।

এ সময় দ্বিতীয় পাইলট তাকে বাধা দেন এবং বিমানটির নিচে নেমে যাওয়া বা পতন রোধ করতে সক্ষম হন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।

উড়োজাহাজের কয়েক জন যাত্রী ইসরায়েলি সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে টেলিফোনে জানিয়েছেন, বিমানের সামনের দিকের যাত্রীরা পাইলটদের মধ্যে ঝগড়ার শব্দ ও চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন। 

এছাড়া সৌদি আরবে অবতরণের আগে বিমানটি হঠাৎ করেই খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে গিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন যাত্রীরা।

তারা আরও জানান যে, সব যাত্রী বিমানের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং বিমানটিকে ঘিরে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। 

সংবাদ সংস্থা এপি-কে ফ্লাই দুবাইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের স্টাফরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া মাত্রই পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।

এদিকে এ ঘটনার পর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার দপ্তর থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসরায়েলি যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমানে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাইলট কিংবা ক্রুদের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে জরুরি অবতরণের ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। ২০২২ সালে জেনেভা-প্যারিস রুটের একটি ফ্লাইটে ককপিটের ভেতরে মারামারির ঘটনায় এয়ার ফ্রান্সের দুই পাইলটকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

তবে সেই ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়নি এবং সেটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই অবতরণ করেছিল।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর