সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাসহ একাধিক অঞ্চলে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-মালকি বলেছেন, ‘তাইফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ঠেকিয়েছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়এবং বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।’
এই হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘হুথি মিলিশিয়াদের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি তাইফ, জেদ্দা, তাবুক এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবু এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়। তবে সতর্কতার নির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের ভবনের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা ও কাচ থেকে দূরে থাকতে এবং খোলা জায়গা, বারান্দা ও ছাদ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমস্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় এই বিশেষ সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১০ দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পবিত্র মক্কা নগরীর সংলগ্ন আকাশসীমায় বিমান হামলার ঝুঁকি তৈরি হলো। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করার ঠিক আগ মুহূর্তে হুথিদের একটি ড্রোন দক্ষিণ মক্কায় ভূপাতিত করেছিল সৌদি বাহিনী।
তবে মক্কা নগরীতে হামলার চালানোর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে হুথি।
ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির দাবি, তারা কেবল সৌদির সামরিক ঘাঁটি এবং তেল শোধনাগার ও বন্দর অবকাঠামোগুলোকে টার্গেট করছে, কোনো ধর্মীয় স্থাপনা নয়।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




