সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে’ এনে দাঁড় করিয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসলামাবাদ।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইয়েমেনবিষয়ক জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ এ মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা এবং ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি পুরো সংঘাতকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে’।
পাকিস্তান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের সব ধরনের হামলার কঠোর নিন্দা জানায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, ‘পাকিস্তান উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এবং ইয়েমেনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তরিক সব উদ্যোগকে সমর্থন করে যাবে’।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতিও পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের ভূখণ্ড, নাগরিক ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিমদের পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগে দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে হুথিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে বিভিন্ন হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং সৌদি সামরিক তৎপরতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে। এছাড়াও একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান জাতিসংঘের মাধ্যমে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর




