সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত শহরে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় বিমান হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে, গোলাবারুদের ডিপো এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
হামলায় এসব স্থাপনায় ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে ৩০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই অপারেশন চালিয়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এদিকে বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হুথিদের দাবির ব্যাপারে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ খামিস মুশাইত শহরে একটি সতর্কতা জারি করে এবং বাসিন্দাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে, জনসমাগম ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, নতুন হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বরও কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা, জাজান, নাজরানসহ কয়েকটি এলাকায় সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই সময় জানিয়েছিল, হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
এদিকে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এমনকি হুথিদের হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তাও চেয়েছে রিয়াদ।
সূত্র: আনাদোলু
এমএইচআর




