শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলা, ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পেছনে ‘সম্ভবত’ ইরান জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল রফতানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল।

সৌদি পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্ভবত তারাই দায়ী।’ 

এসময় তিনি জানান, হামলার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সৌদি যুবরাজকে তিনি নিজের ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইয়েমেনের হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না।

তিনি বলেন, ‘তারা চায় না যে আমরা এতে জড়িত হই, এবং তারা বেশিরভাগ জাহাজকেই যেতে দিচ্ছে। শুধু একটি দেশ আছে যাকে নিয়ে তারা খুব একটা খুশি নয়, এবং আমরা সেটারও সমাধান করে ফেলব।’ 

এদিকে সৌদিতে হামলার বিষয়ে এখনো দায় স্বীকার করেনি কেউ। ইরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে হামলায় ইরানের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

তবে সৌদি পাইপলাইনে হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাগদাদ। 

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হামলাটি নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সৌদি আরব ইতিমধ্যে বিকল্প রপ্তানি পথের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এমন সময়ে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে চাপ আরও বেড়েছে।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক অগ্রগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের অগ্রযাত্রার ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপরও তাদের প্রভাব বাড়ছে। হরমুজের পাশাপাশি এই জলপথও আন্তর্জাতিক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: রয়টার্স  

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর