শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন-পেজেশকিয়ান, আসছেন শি জিংপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন-পেজেশকিয়ান, আসছেন শি জিংপিং

১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি আসছেন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে পুতিনের বিমান। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং রুশ প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। 

আর শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিগত ৮ বছরের মধ্যে এটি কোনো ইরানি প্রেসিডেন্টের প্রথম ভারত সফর।

আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে পুতিন ছাড়াও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ জোটের ১১টি দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। 

এদিকে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই শুক্রবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন পুতিন। নয়াদিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ঋণ লেনদেন এবং জ্বালানি খাতের যৌথ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

ক্রেমলিন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মোদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন পুতিন। এছাড়াও চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভারত সফরও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। 

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন পেজেশকিয়ান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।   

এদিকে ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে বেইজিং-নয়াদিল্লি সম্পর্ক। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তীব্র অবনতি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাটেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি সরাসরি বিমান চলাচল ও ভিসা-সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং-নয়াদিল্লি। 

ভারতও চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বড় আকার ধারণ করলেও নিরাপত্তা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সম্পর্কের মধ্যে এখনও নানা বাধা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শি ও মোদির সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে সবার। দুই নেতার আলোচনায় সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের বিষয় উঠে আসতে পারে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি। 

প্রসঙ্গত, এবারের ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে এবারের সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি, আলজাজিরা

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর