নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করায় সাত বছর পর ভারতের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি, যা নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করবেন’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চলতি বছরের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক ভারত। দুই দিনের সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি সম্প্রসারিত সদস্য দেশগুলোর নেতারাও অংশ নেবেন। বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, উন্নয়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে বেইজিং-নয়াদিল্লি সম্পর্ক। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তীব্র অবনতি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাটেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি সরাসরি বিমান চলাচল ও ভিসা-সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং-নয়াদিল্লি।
ভারতও চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বড় আকার ধারণ করলেও নিরাপত্তা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সম্পর্কের মধ্যে এখনও নানা বাধা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শি ও মোদির সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে সবার। দুই নেতার আলোচনায় সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের বিষয় উঠে আসতে পারে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারত সফর করেছিলেন শি জিনপিং। সেই সময় তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক ভারত-চীন শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




