বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেয় উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশটি। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর গ্রহণযোগ্য নয়’।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলজেরিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে দুই দেশ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন করে। অন্যদিকে আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে পলিসারিও ফ্রন্টের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছে।

এছাড়াও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে আমিরাত ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আলজেরিয়া এ ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে।

অন্যদিকে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমিরাত অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে, যা নিয়ে আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ফলে সাহেল অঞ্চল দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তখনও দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ বললেও একটি দেশের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ করেছিলেন। 

আলজেরিয়ার সর্বশেষ সিদ্ধান্তে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আফ্রিকার বৃহত্তম মুসলিম দেশ আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় ধর্ম হলো ইসলাম এবং এর জনসংখ্যার প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই মুসলিম, যাদের অধিকাংশই সুন্নি। দেশটিতে ইসলাম কেবল মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, বরং দেশটির আইন, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনযাত্রারও অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর