বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মক্কা চুক্তিতে এই মুহূর্তে কোনো দেশকে নেওয়া হচ্ছে না, জানাল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মক্কা চুক্তিতে এই মুহূর্তে কোনো দেশকে নেওয়া হচ্ছে না, জানাল পাকিস্তান

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এই মুহূর্তে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। এমনকি এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনাও চলছে না বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান। 
 
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক ও পরামর্শ করছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে এই মুহূর্তে মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন দেশ অন্তর্ভুক্ত করার কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নেই’।

মক্কায় গত ৭ আগস্ট চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও জোরদারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বাংলাদেশের নাম। প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা। 

এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট—বর্তমানে জোটটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই।

সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘সবার আগে এই তিন দেশকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তাদের বিদ্যমান সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন রয়েছে এমন অন্যান্য দেশের জন্য এই জোটে যোগদানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে’।

তার মতে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে সংশ্লিষ্ট তিন দেশ পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে নেবে।

এদিকে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা হলে বা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হুথি হামলার জবাবে চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তির অধীনে পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে। ফলে প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার বিষয়ে ইসলামাবাদ আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে’।

প্রসঙ্গত, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হলো— সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব—সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

সূত্র: ডন, বিবিসি 

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর