ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলাতক শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা কোনো দায় নেবে না বলে জানালেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড ব্রিকস: দ্য ওয়ে অ্যাহেড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, ‘হাসিনা যা বলছেন, সেটা ওনার এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার বিষয়। ভারত সরকার বলে দিয়েছে, হাসিনা যা বলছেন, তার সঙ্গে ভারত বা সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’
শ্রিংলা বলেন, ‘ভারত সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করাটা স্বাভাবিক বিষয়। এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও মন্তব্য তার।
প্রসঙ্গত, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে গিয়ে দুই বছর ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে তিনি অডিওবার্তা দেন, একইসঙ্গে দেন দেশে ফেরার বার্তাও।
সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, আগামী ডিসেম্বরে নাকি তিনি দেশে ফিরবেন। বিভিন্ন দেশে পলাতক তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি, নেতারাও একই কথা বলছেন।
এদিকে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাবেন। যেহেতু চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
এএইচ



