পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ অক্টোবর। তবে ভোটের আগে প্রশাসনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—নন্দীগ্রামে আদৌ প্রার্থী দেবে কি না ঘাসফুল শিবির?
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিমতৌড়িতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের নেতৃত্বে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না।
বৈঠকে নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলাশাসক। পরে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশিকা নিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়।
তবে কেন তৃণমূল বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাল না, সে বিষয়ে দলটির নন্দীগ্রাম বা তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে তৃণমূলের এই নীরবতাই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। কারণ, নন্দীগ্রাম আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর আগে তৃণমূলের কয়েকজন নেতার কাছে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও তারা নির্বাচনে লড়তে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরও প্রার্থী নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
আরও পড়ুন
মূলত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় এই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
তবে শুধু প্রার্থী বাছাই নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একে একে যোগ দিয়েছেন দলের বহু হেভিওয়েট নেতা। ফলে কোন শিবির দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বে—এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর হাইভোল্টেজ লড়াই হয়েছিল। এবার সেই নন্দীগ্রামেই উপনির্বাচন। ফলে শুধু একটি আসনের ভোট নয়, রাজনৈতিকভাবে এই নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
সূত্র: দ্য ওয়াল
এমএইচআর




