মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৭ দিনে হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

৭ দিনে হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ
হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে মাত্র ৭৭টি জাহাজ। একই সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজে নৌ-চলাচল ব্যাহত না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমে ৭৭টিতে নেমে আসে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা আরও বেশি কমেছে। আগের সপ্তাহে যেখানে ৪৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছিল, সেখানে গত সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩টিতে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর একটি বড় অংশ এখন প্রচলিত নৌপথের পরিবর্তে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নেভিগেশন রুট ব্যবহার করছে। কেপলারের তথ্যমতে, ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করা ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টি ইরানের একতরফাভাবে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেছে। শুধু ৬ সেপ্টেম্বরই চলাচলকারী ৮টি জাহাজের মধ্যে ৭টিই ওই রুটে চলেছে।

কেপলার বলেছে, পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথের ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে যে, নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন শুধু জাহাজ পরিচালনার সতর্কতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটি সাময়িক নাকি ভবিষ্যতে নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হবে, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের এমন কর্মকাণ্ড যেন স্বাভাবিক বা মেনে নেওয়ার মতো বিষয়ে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার ইরানের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখব।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করে ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করতে দেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল

সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, তেহরান পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে একটি ‘নিষিদ্ধ নৌ অঞ্চল’ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কার্যত অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’।

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দেওয়া হবে পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল তৈরি করে, যা অবরোধের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।’

রেজাই আরও বলেন, ‘মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে ইরানের সামরিক প্রস্তুতির ধরনও মৌলিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।’

সূত্র: আল জাজিরা

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর