শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

২০২২ সালের পর বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ এএম

শেয়ার করুন:

২০২২ সালের পর বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

চার বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে, অগাস্ট মাসে তাদের খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের তুলনায় আগস্টের সূচক এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ কম।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাজারে ঝুঁকির প্রভাব আবারও ফিরে আসার সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন একসঙ্গে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচকের আওতাভুক্ত শস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধ সব কটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে ভুট্টা ও চিনিবিটের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার আশঙ্কা এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

আগস্টে শস্যের মূল্যসূচক এক মাসে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন হয়েছে চিনির দামে। আগস্টে এফএওর চিনি মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার আবহাওয়াজনিত উদ্বেগও এতে ভূমিকা রেখেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত সাড়ে চার বছরে চলা এ যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে হামলা বাড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহেও চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে এফএও।

সব মিলিয়ে জলবায়ু, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে এফএও। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদনের হিসাব ৩৪ লাখ মেট্রিক টন কমিয়ে ২৯৮ কোটি টন করা হয়েছে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর