শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এবার কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

এবার কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল পাকিস্তান

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পর এবার কুয়েতের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাওয়ালপিন্ডিতে দুই দেশের মধ্যে ‘প্রোটোকল অ্যাগ্রিমেন্ট-২০২৬’ নামে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল সাবাহ এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এসময় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ দারজ সাদ আল-শ্রিয়ানসহ দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। 

pak-kuwait

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ২০২৩ সালের জুনে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত সামরিক সহযোগিতা কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।’ 

এতে আরও বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী- পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে কুয়েতের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা কার্যক্রমও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি কুয়েত। নিজেদের নিরাপত্তা উন্নয়নে পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েকমাসের আলোচনার পর এই চুক্তি করল দেশটি।  

এরআগে গত জুলাই মাসে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, কুয়েতের সঙ্গে একটি বর্ধিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করছে পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষার বিনিময়ে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কুয়েতের একটি সীমিত পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় মূলত সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মূলত সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, তার অনুরূপ একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি এক সরকারি কর্মকর্তা। 

তিনি আরও জানান, কুয়েত তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের কাছে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এবং এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত স্থাপনাসহ সামরিক সহায়তা চাইছে। 

বিনিময়ে পাকিস্তান কুয়েতের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় তেল ও জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা এবং পাকিস্তানে একটি ‘বন্ডেড ফুয়েল স্টোরেজ’ (জ্বালানি গুদামজাতকরণ সুবিধা) স্থাপন করা।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তির পর কুয়েতের সঙ্গে এই চুক্তি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব জোরদারে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সূত্র: আরব টাইমস কুয়েত

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর