বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

পাকিস্তানের বিস্ফোরক দাবিতে ইরানকে নিয়ে চাপে ভারত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানের বিস্ফোরক দাবিতে ইরানকে নিয়ে চাপে ভারত!

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর এক বছর পর সংশ্লিষ্ট সংঘাত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। 

তিনি জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধ’ চলাকালীন ইসলামাবাদকে সাহায্য করেছে ইরান। ইরানকে নিয়ে ইসলামাবাদের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে পিলে চমকে গেছে ভারতের।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর দাবি, সেই কারণেই গত বছর ভারতের সঙ্গে চার দিনের ‘যুদ্ধ’ থামতে না থামতেই ধন্যবাদ জানাতে তেহরান সফর করেন তিনি। অন্য দিকে, এ ব্যাপারে ইরানের নীরবতায় দানা বেঁধেছে সন্দেহ।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টে একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইরান প্রসঙ্গ টানেন দার। এতে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ব্যাপক ভাবে ইসলামাবাদকে সাহায্য করে তেহরান।’

যদিও সেটা সামরিক, গোয়েন্দা তথ্য না অন্য কোনও ধরনের সহযোহিতা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের ‘যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ে ইরান। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানে নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদি সেনারা।

তার পর থেকে গত ছয় মাসে ইরানে লাগাতার বোমাবর্ষণ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। ইসহাক দার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে তাই তেহরানের পাশে দাঁড়াতে দেরি করেনি পাকিস্তান। ফলে বেশ মজবুত হয়েছে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক।

পাক উপপ্রধানমন্ত্রী এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার নয়। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ চলাকালীন প্রকাশ্যে আসে বেশ কিছু উপগ্রহচিত্র। সেগুলি থেকে জানা যায়, মার্কিন আক্রমণ চলাকালীন ইসলামাবাদের ঘাঁটিতে বেশ কিছু সামরিক বিমান লুকিয়ে ফেলে ইরান। এর জেরে লড়াকু জেট ধ্বংসের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয় তেহরান।

পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ভাবে ইরানের সম্পর্ক বেশ মধুর। অতীতে ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ইসলামাবাদকে বিপুল পরিমাণে হাতিয়ার, গোলা-বারুদ এবং জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে সাহায্য করে তেহরান। তা ছাড়া, কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির পাশে থেকেছে তেহরান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-’৪৫) শেষ হতে না হতেই ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে জড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ওই সময় আমেরিকার বদান্যতায় পশ্চিম এশিয়ায় গড়ে ওঠে পাঁচ রাষ্ট্রের একটি সামরিক সংগঠন। তার পোশাকি নাম ‘সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ বা সেন্টো। ওয়াশিংটন নিজে অবশ্য এর সদস্য ছিল না। ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ব্রিটেনকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীটির জন্মের তারিখটা ছিল ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।

সেন্টো তৈরির ১০ বছরের মাথায় আচমকা কাশ্মীর আক্রমণ করে বসে পাকিস্তান। দু’টি পৃথক সেনা অভিযানে সম্পূর্ণ ভূস্বর্গ দখলের পরিকল্পনা ছিল ইসলামাবাদের তৎকালীন সেনাশাসক ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের। 

modi

সেগুলি হল, অপারেশন জিব্রাল্টার এবং অপারেশন গ্র্যান্ড স্লাম। ওই সময় গোপনে হাতিয়ার, গোলা-বারুদ ও জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলির থেকে রাওয়ালপিন্ডির অস্ত্র ক্রয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে তেহরান।

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গত ২৪ অগস্ট ফের তেহরান সফর করেন পাক ফিল্ড মার্শাল মুনির। চলতি বছরে এই নিয়ে তিনবার ইরান যেতে দেখা গেল তাকে। সেখানকার সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির একাধিক অফিসারের সঙ্গে যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক রয়েছে রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের। তাই ইসহাক দারের মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।


-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর