বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

শেয়ার করুন:

কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসকে যুক্তরাষ্টে নিষিদ্ধের দাবি

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

কট্টর এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের আগামী শনিবার (২৯ আগস্ট) নিউইয়র্কের আইকনিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন-এমএসজির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। 

তবে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ নিউইয়র্কের অনেকেই এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী আয়োজনের বিরোধিতা করছেন।

ইউএসসিআইআরএফ আরএসএস ও এর সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে মার্কিন সরকারকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

উগ্রবাদী সয়গঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের সফর ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতি ও মানবাধিকার মহলে ব্যপক সমালোচনার তৈরি হয়েছে।

তবে, ভারত সরকার এই ধরনের প্রতিবেদন ও সুপারিশকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউএসসিআইআরএফ হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় সরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যার নীতিগত সুপারিশগুলো মার্কিন প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের (ইউএসসিআইআরএফ) চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা মার্কিন সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে জড়িত আরএসএস সদস্য এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যার মধ্যে মোহন ভাগবতকে দেওয়া ভিসা বাতিল করাও অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্যানেলের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইউএসসিআইআরএফ-কে ভারতের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছে।

rss-in

অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, আরএসএস সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী মতাদর্শ প্রচার করে যা সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতাকে উস্কে দেয়।

আরএসএস অসহিষ্ণু হওয়ার দাবি অস্বীকার করে এবং বলে যে এটি একটি "হিন্দু-কেন্দ্রিক সভ্যতামূলক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন" যা হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে ভারতকে "গৌরবের শিখরে" নিয়ে যেতে চায়।

জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমসহ ভারতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে।

তারা ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলিমদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ধ্বংস, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন হরণ এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করে এমন একটি ধর্মান্তর-বিরোধী আইনের কথা উল্লেখ করেছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর