সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদ সরকারের নৃশংসতা ও বেসামরিক মানুষের ওপর ব্যারেল বোমা হামলার পক্ষে ধর্মীয় সাফাই দেওয়ার অপরাধে দেশটির সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমদ বদরেদ্দীন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সিরিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বিতর্কিত ‘ব্যারেল বোমা মুফতি’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালতের বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত তাকে হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অপরাধে ২০ বছর এবং সহিংসতা দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে সব সাজা মিলিয়ে তাকে চূড়ান্তভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই সঙ্গে এই মুসলিম ধর্মীয় নেতাকে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ভবিষ্যতে কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিচারক।
আরও পড়ুন
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্বে থাকা হাসুন আসাদ সরকারের সামরিক অভিযান ও নৃশংসতাকে ধর্মীয়ভাবে বৈধতা দিতে নিজের পদ ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি বেসামরিক এলাকায় প্রাণঘাতী ব্যারেল বোমা হামলা সমর্থন করা, যা ব্যারেল বোমা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায় এবং এই বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন- পূর্ব আলেপ্পো থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ এবং ইদলিবের জনগণকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের উসকানি দিয়েছেন।
২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর হাসুন কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দামেস্ক বিমানবন্দর দিয়ে ছদ্মবেশে জর্ডানে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। চলতি বছরের ২৫ জুন তার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিচারপ্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় দৃষ্টান্ত।
এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তার পরিবারের সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও, ধর্মীয় নেতা হিসেবে হাসুনের বিচারটি বেশ ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব; যা স্বাধীনতার প্রথম চিহ্নের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল এবং যার প্রতিধ্বনি আজও মিলিয়ে যায়নি’।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




