নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। ধান কাটতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে তারা প্রাণ হারান।
বৃহস্পতিবার গোরোনিও এলাকার গোরাউয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী থাকায় বর্ষার স্রোত ও নৌযানটির ভারসাম্যহীনতার মধ্যে সেটি ডুবে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় অভ্যন্তরীণ নৌপথ কর্তৃপক্ষের স্থানীয় ব্যবস্থাপক আবদুল কাদির ইউসুফ।
কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী গোরাউয়ের একটি মসজিদের সামনের চত্বরে ৫০টি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। মরদেহগুলোর অনেকগুলো মাদুর ও ঐতিহ্যবাহী কাপড় দিয়ে মোড়ানো ছিল। দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
নাইজেরিয়ায় প্রাণঘাতী নৌকাডুবির ঘটনা সাধারণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে দেশটির নদী ও জলপথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নৌকাটিতে ধান কাটার জন্য ক্ষেতে যাওয়া জমির মালিক ও শ্রমিকরা ছিলেন। ডুবে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। আরেক বাসিন্দার দাবি, নৌকাটিতে ৫৭ জন যাত্রী ছিলেন।
আবদুল কাদির ইউসুফ বলেন, প্রায় ৪০ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌকায় থাকা যাত্রীদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার পর ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শারহাবিলু কিলিয়া নামে একজনের দাবি, তারা ৪৬ জনকে দাফন করেছেন। পরে আরও মরদেহ আনা হয়। নিহতের সংখ্যা ৫৩ বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: লিংকন ফিরছে, আরব সাগরে ইউএসএস ওয়াশিংটন
গোরাউয়ের সাবেক এক কাউন্সিলর বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামাইলা গারবা জানান, তার ১৩ বছর বয়সী নাতনি জামিলা উসমানও নিহতদের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘আপনি জানেন, বর্ষাকালে বেশিরভাগ নারী ও শিশু ক্ষেতে কাজ করতে যায়।’
এর আগে জানুয়ারিতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়োবে রাজ্যে ফুটো একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছিলেন। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।
এমআর




