শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

লিংকন ফিরছে, আরব সাগরে ইউএসএস ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

লিংকন ফিরছে, আরব সাগরে ইউএসএস ওয়াশিংটন
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরি। এপি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার মধ্যে আরব সাগরে পৌঁছেছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। বুধবার রণতরিটি আরব সাগরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের ভাষ্য, এটি নির্ধারিত সামরিক মোতায়েনের অংশ।

এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরি থাকছে না। ওয়াশিংটন অঞ্চলটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করলেও সেখানে এখন কোনো বিমানবাহী রণতরি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের আরব সাগরে পৌঁছানোর সময়ই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে। গত সপ্তাহে মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, লিংকনকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। গত বছরের নভেম্বর থেকে সান দিয়েগো বন্দর ছেড়ে সমুদ্রে থাকা রণতরিটি প্রথমে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়।

টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে ইউএসএস লিংকন মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে বন্দরে না থেমে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার রেকর্ড করেছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজ আটক করল আইআরজিসি, নেওয়া হচ্ছে ইরানে

গত সপ্তাহে রণতরিটিতে থাকা নাবিক ও মেরিনদের দুরবস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে সেখানে খাবার ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সংকট এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যার কথা উঠে আসে।

প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের কয়েকজন পরিবারের সদস্যও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কাছে দীর্ঘ এই অভিযানের মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজনের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।

এ পরিস্থিতিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ পরিকল্পনার দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের মতে, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী ও অসম লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এর অবসানের কোনো স্পষ্ট পথও এখনো দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা থেমে থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে ইরান। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল বাড়াতে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের বন্দর অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আল-জাজিরাকে সেন্টকমের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১ হাজার ৩০০টি জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, ইউএসএস লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে।

রণতরিটিতে দুরবস্থার খবর অবশ্য ট্রাম্প ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনেকাংশে খারিজ করেছেন। তাদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রণতরিটির নাবিক ও মেরিনদের কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শিগগির শুরু হওয়ার কোনো ইঙ্গিতও নেই। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে করা একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘চূর্ণকারী অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে ‘বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখোমুখি হতে হবে। এ পদক্ষেপকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে অবশ্য ‘মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও পরাজয়ের দিকে নিয়ে যাবে।

সূত্র: আল জাজিরা

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর